মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

রামু উপজেলার পটভূমি

  •       বিশ্বখ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থান রামু।রামুতে আছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত অধ্যায়ের স্মৃতিচিহ্ন। কালের পরিক্রমায় রাজা, রাজবংশ সবই গেছে। তবু ও এখানে টিকে আছে বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন। এখানে এসে বিদগ্ধ পরিব্রাজক মুহুর্তের জন্য দূর অতীতে কল্পনার ভেলা ভাসিয়ে চলে যায় দুই হাজার বছর কিংবা তারো অধিক আগে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর সহিংস ঘটনা এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্য আর সম্প্রীতিতে বড় ধরনের আঘাত করলেও এখানকার  নিদর্শণগুলো সব নষ্ট হয়ে  গেছে এমনটি ভাবাযাবে না। কারন এখনো অসংখ্য পুরাকীতি আর দর্শণীয় স্থান প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে এখনো ডাকছে। প্রাচীনকাল থেকে যুগে যুগে রামু বিভিন্নমুখী কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল। পুরনো গ্রীক ভাষায় লিখিত টুলেমির ভূগোলেও রামুর কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৫০খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত বইটিতে পর্তুগীজ ঐতিহাসিক ম্যানরিক তাঁর গ্রন্থে রামু সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পরিবেশন করেছেন। আরবীয়দের রুহমী রাজ্যটি বর্তমানে রামু বলে অনেকেই মনে করেন। আরবীয় বলতে আরবীয় ঐতিহাসিক আল ইদ্রিসী, আল ইয়াকুবী, সোলায়মান তাজর, কাজী রশিদ বিন জোবের, ইবনে খুরদাদবাহ, ইবনুলফকীহ হামদানী প্রমুখ পন্ডিতদের এ মতামত অনুযায়ী এই রুহমী থেকে রামু শব্দেরউৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। ঐতিহাসিক বিবরণীতে জানা যায়, আরাকানীরা রামুকে প্যানোয়া নামে অভিমত করেছেন। প্যানোয়ার (রামু) গভর্নরকে তারা পোমাজা বলে ডাকত। প্রখ্যাত গবেষক আবদুল করিম পাল বংশের অন্যতম রাজা ধর্মপালের রাজধানী এ রামুতেই বলে অনুমান করেছেন।
        
  •     ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে পূরাকীর্তিসমৃদ্ধ এবং আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃত রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের রামকোট। রামু থানার প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী বাসস্টেশন থেকে সোজা দক্ষিণদিকে (৩ কিলোমিটার দূরে) অবস্থিত এ রামকোট। ধন্যবতীরাজবংশ গ্রন্থে উল্লেখ আছে গৌতম বুদ্ধ ধন্যবতী আরাকানের প্রাচীন রাজধানী।সেখানে এক ধর্মীয় সম্মেলনে বুদ্ধ সেবক আনন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন হে আনন্দভবিষ্যতে পশ্চিম সমুদ্রের পূর্বপার্শ্বে পাহাড়ের উপর আমার বক্ষাস্থি স্থাপিত হবে। তখন এর নাম হবে রাংউ। ধারণা করা হয় ভাষাতাত্ত্বিক পরিক্রমায় রামু শব্দটি এসেছে রাংউ থেকে। রাংউ বার্মিজ শব্দ। রাং অর্থ বক্ষ উ অর্থ অস্থি বলে জানা যায়। রাংউ অর্থ বক্ষাস্থি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস গৌতম বুদ্ধের বক্ষাস্থি এই রামকোট এলাকায় স্থাপিত হয়েছে।হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে দুর্জনক্লিষ্ট ধরা ও পথভ্রস্ট মানবকুলকে রক্ষার অভিপ্রায়ে শ্রী শ্রী ভগবান সপ্তমাবতার শ্রী শ্রী রামদেবকে প্রেরণ করেন। পিত্রসত্য পালনার্থে বনবাসকালে অপহৃত সীতাদেবীকে দস্যু রাবণের কবলথেকে উদ্ধার করে শ্রীলংকা হতে অযোধ্যায় ফেরার পথে শ্রী শ্রী রামচন্দ্র, তৎভ্রাতা লক্ষণ ও শিষ্য হনুমান সমভিব্যহারে এ পূণ্যভূমি পরবর্তীতে রাম কোট নামে খ্যাত হয়।  রামকোট থেকে রামু নামের উৎপত্তি বলে তাদের ধারণা।


Share with :
Facebook Twitter