মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

বিশ্বখ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থান রামু। রামুতে আছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত অধ্যায়ের স্মৃতিচিহ্ন। কালের পরিক্রমায় রাজা, রাজবংশ সবই গেছে। তবুও এখানে টিকে আছে বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন। এখানে এসে বিদগ্ধ পরিব্রাজক মুহুর্তের জন্য দূর অতীতে কল্পনার ভেলা ভাসিয়ে চলে যায় দুই হাজার বছর কিংবা তারো অধিক আগে। এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্য, সম্প্রীতি আর অসংখ্য পুরাকীতি আর দর্শণীয় স্থান প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে এখনো ডাকছে। * হিমছড়ি ঝর্ণা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর পর্যটকদের মুখে উচ্চারিত হয় হিমছড়ির নাম। হিমছড়িতে রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণার অপূর্ব মেলবন্ধন। যা ভ্রমনপিপাসুদের বিমোহিত করে। হিমছড়িকে ঘিরে প্রতিনিয়ত সমাগম ঘটে দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের। এখানে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় পাহাড়ী ঝর্ণা রয়েছে। এসব ঝর্ণার পানি প্রবাহ পর্যটকদের বিমোহিত করে। আগের চেয়ে বর্তমানে পর্যটন এলাকা হিমছড়িকে অনেক সংস্কার করা হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উচুঁ পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য খুব সহজে উপভোগ করা যায়। রামু থেকে হিমছড়ির দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগবে আধঘন্টা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো। টেক্সী, টমটম, বাস যোগে যাওয়া যায়। এছাড়া কক্সবাজার শহর থেকে হিমছড়ির দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। ফলে এখান থেকে যে কোন যানবাহন নিয়ে স্বল্প সময়ে হিমছড়ি পৌঁছা যাবে। * ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ পুরার্কীতি ঃ রামুতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন। যার মধ্যে বৌদ্ধ মন্দির, বিহার ও চৈত্য-জাদি উল্লেখযোগ্য। রামুতে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির বা ক্যাং ও জাদি রয়েছে। তবে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পবিত্র কোরআন অবমানর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়ার ঘটনায় সৃষ্টি সহিংসতায় পুরোপুরি ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামুর অনেক প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার। ওই ঘটনায় পুরোপুরি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিহারগুলো এখন সরকারী নির্মাণ শেষের দিকে রয়েছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যে রামুর লামার পাড়া ক্যাং, কেন্দ্রিয় সীমা বিহার (১৭০৭), শ্রীকুলের মৈত্রী বিহার (১৯৮৪), অর্পন্নচরণ মন্দির ,শাসন ধ্বজা মহাজ্যোতিঃপাল সীমা (১২৮৯বাংলা), শ্রীকুল পুরাতন বৌদ্ধ বিহার, শ্রীকুলের চেরেংঘাটা বড় ক্যাং, (রোয়াংগ্রী ক্যাং ১৮৮৫) সংলগ্ন মন্দির সমুহ, দক্ষিন শ্রীকুলের সাংগ্রীমার ক্যাং সংলগ্ন মন্দির সমুহ, রামকৌট বনাশ্রম বিহার। পূর্ব রাজারকুল বৌদ্ধ বিহার, চাতোফা চৈত্য জাদি, উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞাবন বিহার সংলগ্ন মন্দির উল্লেখযোগ্য। বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র উত্তর মিঠাছড়ি ১০০ফুট সিংহ সজ্জা বৌদ্ধ মুর্তি। উত্তর ফতেঁখারকুল বিবেকারাম বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন মন্দির সমুহ, ঈদগড় বৌদ্ধ বিহার প্রভৃতি। রামুর এই বৌদ্ধ ঐতিহ্য অতীত কাল থেকে গৌরবময় সাক্ষ্য বহন করে আসছে। এখানকার বৌদ্ধবিহার ও প্রতœতাতিত্ত্বক নিদর্শন পরিদর্শনে সারাবছর দেশী ও বিদেশী পর্যটকর সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। আর পর্যটন নগরী হওয়ায় পর্যটকদের কাছে এগুলোর আকর্ষণও বেশী থাকে। সরকারের পৃষ্টপোষকতায় প্রাচীন নিদর্শন বৌদ্ধ পূরার্কীতিগুলো রক্ষনাবেক্ষন করার উদ্যোগ নিলে রামুর এসব ধর্মীয় ও পূরাকীর্তিগুলো পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। * শাহসুজা সড়ক ঃ এটি রামুর ঈদগড়, গর্জনীয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উপরে নির্মিত। সম্রাট শাহজাহান পুত্র শাহ সুজা বাংলার সুবেদার ছিলেন। ভাইদের মধ্যেকার উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলা ত্যাগ করে আরকানে আশ্রয় নেন। আরকান মুখী যাত্রাকালে এটি তিনি নির্মাণ করেন বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে নিবাপদ যাত্রার জন্য। ডা: নীহার রঞ্জন রায় ও অন্যান্য পন্ডিতদের মতে এটি নবম থেকে একাদশ শতকের কোন এক সময় নির্মিত। রেনেলের মানচিত্রে (১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দ ) রামুর উপর দিয়ে শাহ সুজা সড়ক বর্ণিত আছে। সেই শাহ সুজা সড়ক এখনো রামুর ইতিহাসকে অনবদ্য স্মৃতির রাজৈতিহাসিক মহিমায় সমৃদ্ধ করেছে। * রাবার বাগান ঃ ১৯৬০-৬১ সালে অনাবাদি জমি জরিপ করে গবেষণার মাধ্যমে রামুতে রাবার চাষাবা শুরু হয়। রামুর ঐতিহ্যবাহী এ রাবার বাগান আজ দেশের অন্যতম স্থান দখল করে নিয়েছে। রামু রাবার বাগানের জন্য বিখ্যাত এ বাক্যটি পাঠ্য পুস্তকেও পড়ানো হয়। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক রামু রাবার বাগান পরিদর্শন করতে আসে। পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব মিলনের দৃশ্য উপভোগ করে মুগ্ধ হন ভ্রমনপিপাসুরা। এখানে বাগান র্কতৃপক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন বিশ্রামাগার (রেষ্ট হাউস) রয়েছে। রামু রাবার বাগানকে ঢেলে সাজানো হলে পর্যটনশিল্প বিকাশে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। রামু চৌমুহনী ষ্টেশন থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এ বাগানে রিক্সা, টেক্সী বা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাবে। * আইসোলেটেড নারিকেল বাগান ঃ কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অবস্থিত আইসোলেটেড নারিকেল বাগান এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ। জানা গেছে, দেশব্যাপী নারিকেল চাষাবাদ বৃদ্ধির জন্য ১৯৮২ সালে এফএও এবং সরকারের যৌথ অর্থায়নে রামু উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে রাজারকুল ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ নারিকেল বাগান। প্রায় আড়াইশ একর আয়তনের এ নারিকেল বাগানাটিতে তখন রোপন করা হয়েছিল ৬০০ শ্রীলংকার কিংটন এবং মালেশিয়ার ডোয়ারব জাতের উচ্চ ফলনশীল চারা। এসব চারা রোপনের উদ্দেশ্যে ছিল দেশের উপকূলীয় এলাকায় উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের নারিকেল চাষাবাদ জোরদার করা। এতে একই সাথে নদী ও সাগরের ভাঙ্গন রোধ করা যাবে। চাষাবাদ শুরুর ১ দশকে রামুর নারিকেল বাগানটি পরিপূর্ণ রূপ পায়। চারদিকে সবুজ আর সবুজ যেন প্রকৃতির অফুরন্ত সমাহার। সরকারী পৃষ্টপোষকতা ও উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নিলে রামুর নারিকেল বাগান দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ সহ অর্থনৈতিক দ্বার উম্মোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। রামু চৌমুহনী ষ্টেশন থেকে পাঁচ কিলোমটিার দক্ষিনে চট্টগ্রাম-টেকনাফ আরাকান সড়কের পাশে এ বাগানের অবস্থান। এতে রিক্সা, টমটম, টেক্সী বা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাবে। * ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি ঃ সাম্প্রতিক সময়ে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে তৈরী করা হয়েছে ১০০ ফুট লম্বা দেশের সবচেয়ে বড় গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি। অসাধারণ সৌন্দর্য্যে ঘেরা পাহাড় চূড়ায় এক টুকরো সবুজের মাঝেই অবস্থিত বিমুক্তি বির্দশন ভাবনা কেন্দ্র। বর্তমানে সেই পাহাড়ে উত্তর দক্ষিন হয়ে শুয়ে আছে গৌতম বুদ্ধ। বিশালাকার এ মূর্তিটি দেখে যে কেউ অভিভূত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এটি বর্তমানে আরো আকর্ষনীয় করে সংস্কার করা হয়েছে। ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালক ও এ মূর্তির প্রতিষ্ঠাতা করুনাশ্রী থের জানান, অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী নিয়ে বৌদ্ধ জাতিকে আলোর পথ দেখান মহামানব গৌতম বুদ্ধ। তিনি শান্তির প্রতীক, বৌদ্ধদের পথ প্রদর্শক। তাই এ মূর্তির নাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বশান্তি সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি। বর্তমানে এ মূর্তিটি দেখার জন্য দেশী বিদেশী অনেক পর্যটক এখানে আসছে। রামু চৌমুহনী শেষ্টন থেকে তিন কিলোমিটার উত্তরে উত্তর মিঠাছড়ি বির্দশন ভাবনা কেন্দ্রে এ বুদ্ধমূর্তি দেখতে হলে রামু চৌমুহনী ষ্টেশন থেকে রিক্সা বা টেক্সী যোগে যাওয়া যাবে। * রামু চৈত্য ঃ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস গৌতম বুদ্ধের বক্ষাস্থি এ রামকোট এলাকায় স্থাপিত হয়েছে সম্রাট অশোক কর্তৃক নির্মিত সধাতুক সত্যগুলির একটি বঙ্গোসাগরের পূর্ব উপকুলে স্থাপিত রামু চৈত্য। রামু চৈত্যের স্থানে বর্তমানে রয়েছে রাংকোট তীর্থধামঃ- এটাও নিকটবর্তী পাহাড় শৃঙ্গে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে দুষ্টমতি রাবণ কর্তৃক অপহৃতা বনবাসিনী সীতাকে উদ্ধার করে রামানুজ লক্ষণ ও শিষ্য হণুমান সমভিবহারে লঙ্কা থেকে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনকালে এই পূন্যভূমিতে যাত্রাবিরতি করেন। এখানে তাঁদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছিল। কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুইবিলুপ্ত। তবে বাটনা বাটার উপকরণ এখনও বিদ্যমান। এগুলোকে রক্ষণ করে শ্রীরামের একটি পূণ্য মন্দির নির্মিত হয় ৯০১ বাংলা সনে। পাশে রয়েছে শ্রী শ্রী মহোদয়ের মন্দির। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রসিদ্ধ পঞ্চবাটি বন এখানে বলে ধারণা করা হয়। পঞ্চ বট বৃক্ষের সমাহার নাকি ছিল এখানে। অবশেষে সাক্ষ্য হিসেবে একাধিক বট বৃক্ষ এখনও বিদ্যমান। প্রতি বছর তিনদিনব্যাপী শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের জন্ম তিথি উপলক্ষে রামনবমী মেলা অনুষ্টি হয়। এতে সমাগম ঘটে হাজার হাজার পূণ্যার্থীর। * কানা রাজার সুড়ঙ্গ (আধার মানিক) ঃ রামু উপজেলার কাউয়ার খোপ ইউনিয়নে অবস্থিত এ কানা রাজার সুড়ঙ্গ। ঐতিহাসিক সূত্র মতে চিন পিয়ান বা কিং বেরিং এর উদ্বাস্তু জীবনের শেষ সময়কাল আশ্রয় স্থল বা দূর্গ বলে ধারণা করা হয়। কথিত আছে বর্মী সৈন্য ও বর্মী অনুগত আরাকানীদের অত্যাচার করার কারণে প্রতিপক্ষের সংঘবদ্ধ আক্রমণে পরাজিত হয়ে চিন পিয়ান বৃহত্তর চট্রগ্রামে বিতাড়িত হয়ে আতœগোপণ করে। তাকে গ্রোপ্তার করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তৎকালীন ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। চিন পিয়ান টেকনাফের কয়েকটি জায়গা দখল করে কক্সবাজার আসেন এবং কক্সবাজার আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। সে সময় কোম্পানী কক্সবাজার দখল করে নেন। ফলে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে চিন পিয়ান আরকানের দিকে যাত্রা করেন। সেখানে মংগল সাই নামক স্থানে বর্মীদের সঙ্গে এক যুদ্ধে চিন পিয়ান পরাজিত হয়ে রামুর পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। রামু গর্জনীয়ার চিন পিয়ান স্বসৈন্য উপস্থিতির ঐতিহাসিক সাক্ষ্য রামু উপজেলার উখিয়ারঘোনায় তার অবস্থানের কথাই প্রমাণ করে। এখানে থাকাকালীন তাঁর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাহাড়ের গভীরে খনন করা হয় এ সুড়ঙ্গ বা দূর্গ। ইতিহাসের সাক্ষ্য মতে এটিই কানা রাজার সুড়ঙ্গ। * রামুর জাদি ঃ রামু চৌমুহনী থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে। সুউচ্চ পাহাড়ের শীর্ষে প্রতিস্টিত বহু প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতিময় এ জাদি। জনশ্র“তি আছে, কোন এক আরাকান রাজার বিবাহ বাতক ছিল। গন্ডাধিক রাণীও ছিল। তার সবচেয়ে প্রিয যে রাণী, তিনি মারা যান। তার এক সুন্দরী কন্যা ছিল। রাজার বিয়ের বাতল হেতু বদনাম ছাড়িয়ে পড়ায় অমাত্যবর্গতা থেকে বিরত হওয়ার জন্য চাপ দেন। রাজা সম্মত হন এক শর্তে। তার প্রিয়তম প্রয়াত রাণীর জোড়া কঙ্কন খাপে খাপে শোভিত হয় এমন এ সুকণ্যাকে তিনি শেষ বারের মত বিয়ে করবেন। সন্ধানে যোগ্যতমা পাওয়া গেল না। রাজা অন্তঃপুরে বড় রাণী একদিন সখ করে প্রয়াত রাণীর কণ্যাকে মায়ের গহনা পরাতে গিয়ে দেখা গেল মায়ের কঙ্কন কণ্যার হাতে সুদৃশ্যভাবে মানিয়ে গেছে। এসংবাদ রাজার কর্ণগোচর হলে তিনি কণ্যাকে বিয়ে করতে উদ্ধত হলেন। নিন্দনীয় বিষয় হলেও তিনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবেন না। সহবাস এড়িয়ে যাবেন, তবু প্রতিজ্ঞা রক্ষর্থে এবিয়ে হবে। এতে কণ্যা অপমানবোধ করলেন। বিয়ের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে রাজকুমারী অরণ্য পথে পাড়ি জমালেন। ভয়ভীতি ভোলা সেই রাজ কুমারীর যাত্রা বিরতি ঘটে জাদি পাহাড়ের কাছে। তখন জাদি ছিল না। পাদদেশে ক্যায়াং ছিল একটি। সেই ক্যায়াংয়ের ভিক্ষুর সথে দেখা। রাজ কণ্যা সোনার থলেটি ভিক্ষুর কাছে গচ্ছিত রেখে বলেছিল ঐ পাহাড়ে তার মুত্যু হলে তিনি যেন ঐ স্বর্ণ বিনিময় মূল্যে একটি জাদি নির্মাণ করে দেন। রাজনন্দিনী কিছুদিন অনশনে কাটানোর পর মৃত্যুবরণ করলে তারই গচ্ছিত সম্পদে ঐ জাদি নির্মিত হয়। মনোরম পরিবেশে পাহাড় শীর্ষে প্রতিষ্ঠিত এজাদিটি বৌদ্ধদের ধর্মীয় জাদি হলেও এটি কালের ঐতিহাসিক সাক্ষী। সু-উচ্চ এ জাদির চূড়ায় দাঁড়িয়ে সমগ্র রামু এবং পশ্চিমে বিশাল বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। রামু উপজেলায় এছাড়া আরও বহু পুরাকীর্তি ও ভূগোলিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। অনাদিকাল থেকে বহমান বাঁকখালী নদীমাতৃকায় এক ঐতিহাসিক জনপদ রামু। কালের ধারায় সুদূর অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত স্থাপত্য, মানবিক কল্যাণে নির্মাণ, ধর্মীয় অবদান ও মহাপুরুষদের আগমন স্মৃতি সাক্ষ্য, আর রাজা রাজণ্যের জৈবনিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের ইতিহাস নির্ভর তথ্য ম্মৃতি সমৃদ্ধ প্রাচীন নিদর্শন ইত্যাদির বাহুল্যে অলংকৃত রামু। আর এসব কারণে রামুর প্রতিটি দর্শনীয় পযর্টন স্পটের খ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদেরও অবিরাম হাতছানি দিয়ে ডাকছে